বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ সংকটে বাড়তে পারে আইফোনের দাম

বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের কারণে স্মার্টফোনের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের কারণে স্মার্টফোনের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের দিকে। সিলিকন ভ্যালি থেকে শেনজেন সবখানে একটিই প্রশ্ন, অ্যাপল কি আইফোনের দাম বাড়াবে, নাকি বাজার হিস্যা ধরে রাখতে মুনাফার ভাগ ছেড়ে দেবে?

সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে মেমোরি চিপের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। মেটা, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল পরিমাণ চিপ কিনছে। চিপ নির্মাতারাও এখন বেশি মুনাফার আশায় স্মার্টফোনের চেয়ে ডাটা সেন্টারের চিপ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনীয় ডি-র‍্যাম চিপের সংকট দেখা দিয়েছে এবং এর দামও আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, মেমোরি চিপের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইফোন ১৭ মডেলের ব্যাপক চাহিদার কারণে অ্যাপল ভালো ব্যবসার আশা করলেও ফোনের দাম বাড়বে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

টিম কুক জানান, তাদের সামনে অনেক পথ খোলা আছে এবং তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চিপের সংকট থাকলেও স্যামসাং বা মাইক্রোনের মতো বড় সরবরাহকারীদের ওপর অ্যাপলের যে প্রভাব রয়েছে, তাতে তারা সহজেই প্রয়োজনীয় চিপ সংগ্রহ করতে পারবে। কিন্তু সংকটের কারণে ছোট স্মার্টফোন নির্মাতারা বিপাকে পড়তে পারেন। যদি অ্যাপল তাদের ফোনের দাম না বাড়ায়, তবে অন্য কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হলে আইফোন সাধারণ ক্রেতাদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এতে অ্যাপলের বাজার হিস্যা বাড়বে।

তবে একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল মনে করেন, অ্যাপল দাম না বাড়ালে তাদের মুনাফা কমে যেতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের অসন্তুষ্ট করবে। আবার যদি অ্যাপল দাম বাড়ায়, তবে অন্য কোম্পানিগুলো সে সুযোগে দাম বাড়িয়ে দেবে। কোয়ালকমের মতো বড় চিপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এরই মধ্যে জানিয়েছে, চিপ সংকটের কারণে অনেক চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

সব মিলিয়ে মেমোরি চিপের এ সংকট ২০২৬ সালে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। স্যামসাং ও অ্যাপল শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোন কেনা কতটা ব্যয়বহুল হবে। খবর রয়টার্স

আরও